সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাট জেলা শহরে সড়ক গুলোর বেহাল অবস্থা ভোগান্তিতে শহরবাসী

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট প্রতিনিধি::

সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং রেলওয়ে দপ্তরের অধীনে লালমনিরহাট জেলা শহরের সড়কগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। ফলে এই দুই দপ্তরের অবহেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জেলা শহরবাসী। জেলা শহরের ব্যস্ততম প্রধান সড়কটি ছাড়াও অলিগলি ও পাশর্^সড়ক গুলোর কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকছে। ফলে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সড়কগুলোর এমন বেহাল দশার কারনে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। এসব সড়কে তাদের চলতে গিয়ে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে পাশাপাশি একের পর এক দুর্ঘটনার শিকারও হতে হচ্ছে তাঁদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরটির প্রধান এবং ব্যস্ততম সড়ক মিশন মোড় থেকে বিডিআর রেলগেট হয়ে নয়ারহাট ও কুলাঘাটগামী সড়কটির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশের অনেক স্থানে খানাখন্দে এতটাই ভরে গেছে যে পথচারী তো বটেই, এমনকি ছোটবড় যানবাহনেও চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। সড়কটির নর্থঙ্গেল মোড়, আলোরূপা মোড়, বিডিআর রোড, পুরান বাজার রোড, সাপটানা রোডের মাঝে মাঝে দুই তিন মিটার পর পর অংশ বিশেষ ভেঙ্গে গেছে। ফলে জেলা খাদ্য অফিস, টেলিফোন অফিস, সমাজসেবা অফিস, সদর এলএসডি গোডাউন, জেলা বাজার নিয়ন্ত্রকারী কর্মকর্তার অফিস, উপজেলা পরিষদ, জেলা সদর হাসপাতাল, বিদ্যুত অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগামী লোকজনের ভোগান্তি এখন চরমে পৌছেছে। চাকুারজীবি শমসুল হক, মিজানুর রহমানসহ অনেকে জানান, বাড়ি থেকে বের হয়ে রিক্সা কিংবা অটোরিক্সায় চেপে অফিসে যেতে প্রায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়া সন্তানদের হেটে তো দুরের কথা রিক্সায় পাঠাতেও ভয় করে। যেভাবে পানি জমে রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি তাতে করে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সড়কের বেহাল দশার কারনে একাধিকবার দুর্ঘটনার শিকার অটোচাল বাবলু মিয়া জানান, খানাকন্দের কারনে একটি যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে যেতে সব সময়ই আতঙ্কে থাকতে হয় দুর্ঘটনার ভয়ে। ফলে অতিরিক্ত সময় লেগে যায় কাঙ্খিত স্থানে যেতে। এতে যাত্রীরা যেমন বিরক্ত হচ্ছে তেমনি তাঁর মত অনেকের আয় রোজগার কমে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত এই সড়কটি লালমনিরহাট-ফুলবাড়ি সড়ক নামে অভিহিত আছে সড়ক ও জনপথ বিভাগে। প্রতি বছরই নিয়মিত সংস্কার (রুটিন মেইনটেন্যান্স) করা হয় সড়কটি। সেই ধারাবাহিকতায় গত ঈদ-উল-আযহার আগে জরুরি ভিত্তিতে কিছু ইট-পাথরের খোয়া ফেলে সংস্কার করা হয়। কিন্তু অল্প কয়েকদিন পরেই পূর্বের অবস্থায় আবার ফেরে সড়কটি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম বলেন, “সড়কটি কুড়িগ্রামের অন্যান্য সড়কের কাজের সাথে যৌথভাবে একটি প্রকল্পের আওতায় মেরামত করার জন্য ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কাজ শুরু হতে আরও তিন মাস লেগে যেতে পারে।”এছাড়া রেগুলার বেসিসে সড়কগুলো সংস্কারের কাজ করা হয় যা এই সড়কের ক্ষেত্রেও করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

এদিকে শহরের কিছু কিছু গলি এবং পাশর্^ সড়কের অবস্থাও একই অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ করে রেলওস্টশন থেকে বিডিআর গেট, আলোরুপা মোড় থেকে সোহরাওয়ার্দী মাঠ, বসুন্ধরা মসজিদ মোড় থেকে সিপিস্কুল, মহিলা কলেজ মোড় থেকে রেলওয়ে কন্ট্রোল অফিস পর্যন্ত সড়কগুলো ছাড়াও শহরের অনেক ছোট ছোট সড়কগুলো এখন একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে একাকার হয়ে গেছে। পায়ে হাঁটার কোনো সুযোগ তো নেই, রিকশায় চড়াও দায়। বিশেষ করে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত ৫শ মিটার সড়কের প্রায় প্রায় ৪শ মিটার সড়কে বড় বড় খাল সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কটি চলাচলে অযোগ্য হওয়ায় পথচারীদেও ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বছরের পর বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায়টি এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে আগের রাস্তা সংস্কারের অনিয়ম, অন্যদিকে রাস্তায় নিষ্কাশন ব্যবস্থা নতুন করে তৈরী করা হলেও অনেক স্থানেই তা কাজে আসছে না। আবার কোথাও কোথাও নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় কাদা মাটি জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই হাটুুপানি জমে যায় সড়কে। ফলে অফিস-আদালতসহ কয়েকটি প্রধান শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে যেতে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেহাল দশার এসব সড়কের অনেক সড়ক রেলওয়ের হওয়ায় তা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কয়েক বছর ধরে সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার শফিকুর রহমান সড়কগুলোর কারনে নিজেও ভোগান্তিতে আছেন এ কথা স্বীকার করে বলেন, “বাজেট সংকটের কারনে সড়কগুলো সংস্কার করা যাচ্ছে না। বাজেট পেলেই সড়কগুলো সংসাকার করা হবে।”

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র বলেন, “পৌরসভার নিজস্ব প্রধান সড়কগুলো বর্তমানে নতুন করে তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু সড়ক ও জনপথের সড়ক এবং রেলওয়ের সড়কগুলো মেরামত না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে বারবার বলা হলেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com